কেমন হবে শিশুর প্রথম শক্ত খাবার?

ছয় মাস বয়সী শিশুর খাবার কেমন হবে

৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই যথেষ্ট বুকের দুধে যে পরিমাণ পানি আছে তা তার পানির চাহিদা মেটায়। তাই প্রথম ছয় মাস তাকে কোনো বাড়তি দুধ বা পানি দেয়ার প্রয়োজন হয় না। ৬ মাস বয়স থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি উপযুক্ত ও সহজপাচ্য বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে। মায়ের দুধ খাওয়ানো দুই বছর পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। এই সময়টাতে মাকেও পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। # ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর খাবারঃ ৬ মাসের পর থেকে শুধু মায়ের দুধ শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে না। শিশুর ওজন প্রথম ৬ মাসে জন্ম ওজনের দ্বিগুণ হয়, ১ বছরে তিনগুণ এবং ২ বছরে প্রায় চারগুণ হয়। শিশুকে কোনো নতুন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হলে অন্তত ২ মাস সময় প্রয়োজন। এ সময়ে খুব সহজেই পরিবারের খাবার থেকে তার পুষ্টি চাহিদা মেটে।

তাই জেনে নিন কোন ধরনের শক্ত খাবার শিশুর জন্য হবে উপকারি।

খিচুড়ি

প্রথম শক্ত হিসেবে একটি আদর্শ খাবার হতে পারে খিচুড়ি। খুবই সাধারণ একটি খাবার হলেও এর পুষ্টিগুণ অনেক, বাচ্চার প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাটস সব থাকে খিচুড়িতে।

পরিজ

পরিজ একটি সহজপাচ্য স্বাস্থ্যকর খাবার। যা ঘরে বানানোও একদম সহজ। দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে ওটস মিশিয়ে ৩ মিনিট নাড়বেন। এরপর নামিয়ে চটকানো পাকা কলার সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন শিশুকে।

ফ্রুট/ভেজিটেবল পিউরি

আপেল, নাশপাতি, মিষ্টি আলু, গাজর, কলা, মিষ্টিকুমড়া, পাকা পেঁপে জাতীয় ফল/সবজি টুকরো করে কেটে অল্প পানিতে ঢেকে সিদ্ধ করে তারপর ভাল করে ডাল ঘুঁটনি দিয়ে ঘুঁটে ম্যাশ করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ফ্রুট/ভেজিটেবল পিউরি। এই খাবার বানানোও খুব সহজ আবার অনেক পুষ্টিকরও বটে।

পুডিং

পুডিং তো আমরা প্রায় খেয়ে থাকি কিন্তু শিশুর শক্ত খাবার হিসেবে যে পুডিং তৈরি করবেন তা হতে হবে একেবারেই ভিন্ন।

উপকরণ

১টা ডিমের সাদা অংশ (কুসুমসহ পুরো ডিম সাধারণত ১০ মাস বা ১ বছরের পর দেয়াই ভাল), ১ কাপ দুধ (পানি মিশিয়ে পাতলা করা), চিনি, লবণ (না দিলেও হয়), ২ ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স (না দিলেও হয়), ঘি/মাখন/তেল।

প্রণালি

একটি পাত্রে সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে খুব ভাল করে ফেটিয়ে নিন। চুলার আঁচ কমিয়ে একটি প্যানে ১/৩ চা চামচ ঘি/বাটার/তেল ঢেলে তাতে দুধ ডিমের মিশ্রণ ঢেলে দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, এক-দেড় মিনিটের ভিতর মিশ্রণটি থকথকে হয়ে গেলেই নামিয়ে ফেলুন।

হোমমেইড সিরিয়াল

হোমমেইড সিরিয়াল শিশুর জন্য খুব পুষ্টিকর একটি খাবার। বিশেষ করে এটি ঘরে তৈরি হয় বলে শিশুর জন্য বেশ উপকারি।

উপকরণ

৩০০ গ্রাম পোলাওর চাল, ৩০০ গ্রাম নাজিরশাইল চাল, ভুট্টা ১০০ গ্রাম, গম ১০০ গ্রাম, মুগ ডাল ১০০ গ্রাম, মসুর ডাল ১০০ গ্রাম, বুটের ডাল ১০০ গ্রাম, কাঠবাদাম ৫০ গ্রাম,পেস্তাবাদাম ৫০ গ্রাম, আখরোট ৫০ গ্রাম।

প্রণালি

সব উপকরণ ভালভাবে ধুয়ে পারলে রোদে শুকিয়ে মেশিনে ভেঙে চুলায় অল্প আঁচে হালকা করে টেলে ঠাণ্ডা হলে বাতাসরোধক পাত্রে এয়ারটাইট সংরক্ষণ করতে হবে। শিশুকে দুধ দিয়ে রান্না করে খাওয়ানো যাবে। দুধ ফুটলে তাতে পরিমান মত সিরিয়াল ঢেলে দিয়ে ৫-৬ মিনিট রান্না করতে হবে, রান্নার সময় মিশ্রণ ক্রমাগত নাড়তে হবে।

 

সময়মত পরিপূরক খাবার না দিলে যে সমস্যাগুলো হতে পারে

  • সময়মত পরিপূরক খাবার না দিলে শিশু পুষ্টিহীণতায় ভুগতে পারে ও তাঁর স্বাস্থের অবনতি ঘটতে পারে। এর ফলে তাঁর পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর প্রভাব যেমন অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন প্রকার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
  • শিশুকে যদি বেশি দেরী করে বাড়তি ও উপযুক্ত খাবার না দেওয়া হয় তাহলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

 

ছোট শিশুরা আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ। তারাই দেশ ও সমাজের ভবিষ্যত কর্ণধার । তাই জীবনের শুরুতেই যদি সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার না পায় তাহলে তাঁর স্বাস্থের অবনতি সহ সুস্থভাবে বেড়ে উঠা মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিটি শিশু যাতে সুস্থ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে বেড়ে উঠে সে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।

 

error: Alert: Content Copying is protected !!