শীতের সকালে গরম পানি, করতে পারে আপনার ত্বকে বিভিন্ন ক্ষতি

শীতের সকাল। দেয়ালের ঘড়িতে কাঁটা ৭:৩০। কুয়াশায় সূর্য ঢাকা পরে চারপাশ এখনও প্রায় অন্ধকার রয়ে গিয়েছে। ৯ টার সময় অফিস, তারাতারি ফ্রেশ হয়ে গোসল করে নিতে হবে। কিন্তু এখানেই শুরু এই শৈত্য ঋতুর প্রধান চ্যাঁলেঞ্জ। এই ঠাণ্ডা হিম হিম আবহাওয়ায় ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ, অনেকটা আহত পাখিকে আবার গুলি করার মতো। কিন্তু গোসল তো করতেই হবে, না করলে যে শরীরের ক্লান্তি, অবসন্নতা রয়েই যাবে। তো যেই ভাবা, সেই কাজ, গিজার কিংবা চুলোয় পানি গরম করে নিয়ে, তাঁর সাথে খানিকটা কলের ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে গোসল সেরে নিলেন। গরমের পরিমাণ বেশি থাকায় বেশ কিছুক্ষণ সময় ধরে গোসল সারলেন যাতে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এতে করে ক্ষতি হতে পারে ত্বকের, এমনকি এটি আপনার ত্বকের মশ্বেরাইজার নষ্ট করে ত্বককে করে দিতে পারে আরও রুক্ষ।

আমাদের ত্বকের বাহিরের স্তরটি কসমেটিক টিস্যুর মতই সংবেদনশীল। শীতে স্বাভাবিকভাবেই ঠাণ্ডার কারনে আমাদের ত্বক Rash বা রুক্ষ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরম পানি দিয়ে গোসল করলে আমাদের ত্বকের প্রতিরক্ষাকারী যে কোষগুলো থাকে, সেগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শীতের সময় গরম পানি দিয়ে গোসলের সময় আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন, গরম পানির Molecule গুলো চারপাশে ধুয়োর সৃষ্টি করে, কিন্তু আপনি এই গরম বরং গরম চায়ের মতো উপভোগ করেন চারপাশের ঠাণ্ডা আবহাওয়ার ফলে। কিন্তু এই গরম আপনার ত্বকের তেলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে আপনার ত্বকের বিবিধ ক্ষতি সাধন করতে পারে। তবে ডা. তাওহীদা রহমান ইরিনের মতে অতিরিক্ত গরম পানি না নিয়ে, হাল্কা গরম পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকে। তাঁর মতে, ফুটন্ত গরম পানি না নিয়ে, মোটামুটি গরম (যেমন ৪৭-৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা) করা পানি গোসলের জন্য যথাযথ। এতে শরীর ও মন দুটোই প্রফুল্ল থাকে এবং কাজের সময় মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

error: Alert: Content Copying is protected !!