লিভার সুস্থ রাখার উপায় এবং উপকারী খাবার

কোন খাবার লিভারের জন্য উপকারী

লিভার শরীরের দ্বিতীয় বৃহত্তম অঙ্গ এবং শক্তির ভাণ্ডার যা অনেক রকমের শারীরবৃত্তিয় কাজ করে যেমন পরিপাক নালি থেকে শরীরের মধ্যে যাবার আগে রক্ত ছাঁকা, রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক ঘনত্ব বজায় রাখা, সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করার জন্য আয়রন ও গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, ক্ষুদ্রান্তে গিয়ে ফ্যাট হজম করান, পিত্তরস নিঃসরণ।   সুস্থ থাকতে লিভারের খেয়াল রাখতেই হবে। শরীর ভালো রাখতে লিভার সুস্থ রাখা জরুরি। লিভার অকার্যকর হলে বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা, লিভারের নানা অসুখ-বিসুখ, এমনকী টাইপ টু ডায়াবেটিসও হতে পারে।  জেনে নিন লিভার সুস্থ রাখার সহজ নিয়ম।

লো ফ্যাট ফুডে ‘না’– ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়াতে অতিরিক্ত মদ্যপান, তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত্ ঠিকই, তবে লো ফ্যাট ফুড হইতে সাবধান। সুপারমার্কেটে গিয়ে লো ফ্যাট বা ৯৯ শতাংশ লোয়ার ইন ফ্যাট লেখা ফুড কেনা অবিলম্বে ত্যাগ করুন। এই সব খাবার থেকে ফ্যাট বাদ দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু স্বাদ ধরে রাখতে যোগ করা হয় প্রচুর পরিমাণ চিনি। এতে লিভারের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
স্ট্রেস থাকলে খাবেন না– বোর হলে, এনার্জি কম লাগলে কী করি আমরা? অনেকেই এই সময় খাবার খেয়ে মুড ঠিক করতে চান। চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন লিভার সুস্থ রাখতে স্ট্রেসের সময় খাবার ছোঁবেন না। এই সময় হজম ঠিক মতো হয় না।
ওষুধ থেকে সাবধান – বেশি কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি করে। এ সব ওষুধ থেকে দূরে থাকুন। কিছু পেনকিলার, যেমন টাইলেনল বা কোলেস্টেরলের ওষুধ লিভারের প্রভূত ক্ষতি করে।
 টক্সিন – ত্বকে বিষক্রিয়া লিভারের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ত্বকের মাধ্যমে বিষ রক্তে শোষিত হয়। তাই স্প্রে, টক্সিন থেকে দূরে থাকুন।
 প্লান্ট প্রোটিন – লিভার সুস্থ রাখতে সবচেয়ে বেশি জরুরি সঠিক খাবার বাছা। অ্যানিমাল প্রোটিনের থেকে লিভারের জন্য বেশি ভাল প্লান্ট প্রোটিন। ডাল, সবুজ শাক-সব্জি, বাদাম, ফাইবার খান।
ইজি বুজিং – অ্যালকোহল লিভারে টক্সিন জমা করে। ফলে অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতি করে। তবে হালকা অ্যালকোহল শরীরের পক্ষে ভাল।
হেলদি ফ্যাট – ফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই লিভার সুস্থ রাখতে ফ্যাট ডায়েট থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দেবেন না। হেলদি ফ্যাট খান। অলিভ, ওয়ালনাট জাতীয় খাবারে হেলদি ফ্যাট থাকে।
একটা টক্সিক লিভার থেকে গা গোলানো, বমি, তলপেটের ব্যথা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার মতন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক রকমের খাবার পাওয়া যায় যা শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ বের করার মতন লিভারের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়, যা লিভার ডিটক্স খাবার নামে পরিচিত। লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাবারের তালিকা হলঃ

কফি :  ২০১৩ সালে ‘লিভার ইন্টারন্যাশনাল’ জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কফি লিভারের জন্য খুবই উপকারী, এটি ফ্যাটি লিভারের হাত থেকে লিভারকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে লিভার প্রতিরোধকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও বাড়ায়।

ওটমিল : খাদ্য তালিকায় ফাইবার যোগ করার অন্যতম উপায় হলো নিয়মিত ওটমিল খাওয়া। হজমশক্তি বাড়াতে ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ওটমিল খেলে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্রিন টি : ২০১৫ সালে ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’ প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, গ্রিন টি শরীরের চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে মানসিক চাপ এবং ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা কমায়।

রসুন : নিয়মিত রসুন খেলে লিভারের কার্যকারিতা বাড়ে। ২০১৬ সালে ‘অ্যাডভ্যান্সড বায়োমেডিক্যাল রির্সাস’ এ প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, নিয়মিত রসুন খেলে ওজন কমে। সেই সঙ্গে লিভারের ফ্যাট জমার প্রবণতাও কমে।

বেরি : বিভিন্ন ধরনের বেরি বিশেষ করে ব্লুবেরি, রাসবেরি এবং ক্যানবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

জাম্বুরা : ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’ তে প্রকাশিত গবেষণাপত্র বলছে, জাম্বুরা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের প্রদাহ কমায়।

উদ্ভিজ্জ খাবার : বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ খাবার যেমন- অ্যাভোকাডো, কলা, বিট, ব্রকলি, গাজর, বাঁধাকপি, লেবু, পেঁপে, তরমুজ ইত্যাদি লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ফ্যাটি মাছ : ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’ তে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ এবং মাছের তেল লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়।

বাদাম : সব ধরনের বাদাম লিভার সুস্থ রাখে।

অলিভ অয়েল : অতিরিক্ত চর্বি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তবে কিছু কিছু ফ্যাট আবার লিভারের জন্য উপকারীও। গবেষণা বলছে, খাদ্য তালিকায় নিয়মিত অলিভ অয়েল যোগ করলে লিভারের কার্যকারিতা বাড়ে। এছাড়া এ তেলে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড গোটা শরীরের জন্যই উপকারী।

সূত্র : হেলথলাইন

error: Alert: Content Copying is protected !!