কেমোথেরাপি: কী, কেন, চিৎিসার পরবর্তী সতর্কতা।

ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি

কেমোথেরাপি কী?

কেমোথেরাপি মূলত এমন ধরনের এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের জন্ম এবং বৃদ্ধিকে ব্যাহত করা হয়। এটি ক্যান্সার কোষের খাদ্য সংগ্রহকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে একপর্যায়ে কোষটি অ্যাপোটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

কীভাবে প্রয়োগ করা হয় কেমোথেরাপি?

রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য এবং রোগের তীব্রতার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন উপায়ে কেমোথেরাপি দেয়া যেতে পারে। এগুলো হলো:

ইনজেকশন: এই প্রক্রিয়ায় ইনজেকশনের মাধ্যমে ঔষধ প্রবিষ্ট করা হয়। কোনো রোগীকে যদি অন্য ঔষধও নিতে হয় তখন তার রক্তনালিতে সেটির টিউব রেখে দেয়া হয়, যাতে বারবার সেটি খোলা কিংবা লাগানোর প্রয়োজন না পড়ে। এতে করে রোগীর যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ হ্রাস পায়। এটি হতে পারে ইন্ট্রা আর্টারিয়াল (ধমনীর মধ্যে প্রবিষ্ট করে) কিংবা ইন্ট্রাভেনাস (শিরার মধ্যে প্রবিষ্ট করে)।

ওরাল: ঔষধ বড়ি বা ক্যাপসুল হিসেবে।

টপিকাল: ক্রিম হিসেবে ত্বকে মালিশ করে।

 

ক্যানসার চিকিৎসার সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্র কেমোথেরাপি

কেমোথেরাপির কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো:

  • কেশগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে, যার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর চুল পড়ে যেতে দেখা যায়।
  • প্রজননতন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
  • মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে।
  • বমি বমি ভাবের উদ্রেক ঘটে।
  • ত্বক এবং নখ শুকিয়ে আসে।
  • ঘন ঘন মনমেজাজের পরিবর্তন ঘটে।

কেমোথেরাপি চলাকালে কি করবেন, কি করবেন না :

১) কেমোথেরাপি চলার সময়ে খাওয়া দাওয়া করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। অকারণেই বমি হয়। এ কারণে আপনার প্রিয় খাবারটি এ সময়ে না খাওয়াই ভাল। কারণ, অতি প্রিয় খাবারটি খাওয়ার পর পরই যদি বমি হতে থাকে তবে ওই খাবার খাওয়ার প্রতি একটা অনিচ্ছা, অরুচি পরবর্তিকালে কাজ করতে পারে।

২) কেমো নেবার আগে হয়তো ঘরের অনেক কাজ আপনি নিজেই করতেন। কিন্তু কেমো (কেমোথেরাপি) নেওয়া শুরু হয়ে গেলে আর সে সব কাজ করতে পারবেন না।

৩) নিজের যে কোনও সমস্যার কথা আশেপাশের মানুষকে জানান। বিশেষ করে নিজের চিকিত্সককে সব খুঁটিনাটি সমস্যার কথা বলুন। আপনার যদি কোনও ব্যাপারে মন খুঁতখুঁত করতে থাকে, তাহলে চেপে রাখবেন না। কারণ, আপনার কী সমস্যা হচ্ছে, তা আপনিই সবচেয়ে ভাল বুঝবেন আর আপনিই তা বোঝাতে পারবেন।

৪) কেমো নেবার পর প্রচুর জল পান করা উচিত। এতে ঘন ঘন প্রশ্রাব হয়। শরীরেও নানা রকম অস্বস্তি লাগতে পারে। তাই কেমো নেবার দিন খোলামেলা, আরামদায়ক জামা-কাপড় পড়া উচিত।

৫) কেমো নেবার পর বেশিরভাগ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীই ঘুমিয়ে থাকেন। আর সেটাই স্বাভাবিক। চিকিত্সকদের মত, এই সময়টা যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়া উচিত। তবে মানসিক সুস্থতার জন্য অনেক ক্যান্সার আক্রান্তকেই এ সময়টায় নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্সকরা। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই শরীরকে কষ্ট দেওয়া চলবে না।

 

কেমোথেরাপির সময় কোন খাবারগুলো অধিক উপকারি?

  • শস্যদানা সমৃদ্ধ খাদ্য : লাল চালের ভাত, হোল হুইট পাউরুটি, বার্লি প্রভৃতি।
  • কমলালেবুর রস : কমলালেবুর টকভাব স্যালাইভারি গ্ল্যান্ডের উপর কাজ করে পরিমাণের তুলনায় বেশি স্যালাইভা তৈরি করে থাকে।
  • আদা : প্রতিবেলার খাবার খাওয়ার পূর্বে কিছু পরিমাণে আদা খেলে পেট ও পাকস্থলীতে ভালো বোধ হবে।
  • রসুন : প্রতিদিন ২-৩ কোয়া রসুন খাওয়া প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।
    পেঁয়াজ : পেঁয়াজ ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাঁধাপ্রদান করে থাকে।
  • ওটস : খাবারে রুচি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তে খারাপ কোলেষ্টেরলের কমাতে, ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে ও নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে থাকে।
  • ডাল : ডালে রয়েছে সেলেনিয়াম, স্যাপোনিন্স, ফাইটাটেস, জিঙ্ক, আঁশ ও ফোলেট যেগুলো অ্যান্টি-কারসিনোজেনিক (ক্যান্সার-বিরোধী) প্রভাব তৈরি করে শরীরে।

সফলতার হার অনেক বেশি হলেও এ কথা ধ্রুব সত্য যে, কেমোথেরাপির মাধ্যমে পুরোপুরি ক্যান্সার নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে অন্যান্য থেরাপির চেয়ে এটি অনেক ইতিবাচক ফলাফল দেখিয়ে থাকে। যেহেতু কেপথেরাপি শরীর কে দূর্বল করে দেয়, সেক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভাস এই সময়ে খুবই জরুরি একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য।

 

    সূত্র  : সংগৃহীত :

error: Alert: Content Copying is protected !!