৭টি লক্ষণ বলে দেবে স্ট্রোক আপনার দিকে ধেয়ে আসছে

স্ট্রোক চেনার ৭টি লক্ষণ

স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের রক্তনালীর রোগ। মস্তিষ্কে তো অনেক কিছুই থাকে। মস্তিষ্ক থাকে, রক্তনালী থাকে, পানি থাকে, পর্দা থাকে, স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের রক্তনালীর রোগ। স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি রোগ। রক্তনালীর জন্যই হবে এবং রোগটি হবে হঠাৎ করে। স্ট্রোক হবে হঠাৎ। রোগী এই ভালো ছিল। হঠাৎ করে স্ট্রোকের জন্য একটি লক্ষণ দেখা  দিবে তার। এ থেকে ব্রেন ড্যামেজ, প্যারালাইসিস এবং মৃত্যুও হতে পারে।

স্ট্রোক হওয়ার আগে স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চিনতে পারলে এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারলে রোগীকে মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব৷  জেনে নিন স্ট্রোক চেনার সাতটি লক্ষণের কথা৷

১. উচ্চ রক্তচাপ
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের মত গুরুতর দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রক্তনালীগুলোকে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হয়। শুধু তাই নয়। মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলো ফেটে মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ জনিত স্ট্রোকে মানুষ মারাও যেতে পারে।
২. দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
স্ট্রোক হওয়া আগে আপনার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। আপনি দূরের জিনিস দেখতে সমস্যায় পড়তে পারেন বা সবকিছু ঘোলা ঘোলা দেখতে পারেন। যুক্তরাজ্যে এক জরিপে অংশ নেওয়া ১,৩০০ স্ট্রোকের আক্রান্ত রোগী স্ট্রোকের আগে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
৩. হাত, পা বা চেহারা অবশ হওয়া
স্ট্রোকের আগে আগে দেহের এক পাশের বা উভয় পাশের হাত পা অবশ অবশ অনুভব হতে পারে। একই ঘটনা মুখমণ্ডলেও ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
৪. মাথা ঘোরা বা অকারণে ক্লান্তি অনুভব হওয়া
এক গবেষণায় দেখা গিয়ে, স্ট্রোক হওয়ার আগে প্রায়ই মাথা ঝিম ঝিম বা মাথা ঘোরাতে পারে। পাশাপাশি আপনাকে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিধান্বিত দেখাতে পারে।
৫. হঠাৎ হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা
স্ট্রোকের আগে রক্তনালী সরু হয়ে যায়। স্ট্রোক যত ঘনিয়ে আসে রক্তনালী দিয়ে রক্তপ্রবাহ তত বাঁধাগ্রস্ত হয়। ফলে মস্তিষ্ক তার প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন বঞ্চিত হয় এবং তার প্রতিক্রিয়ায় প্রায়ই তীব্র মাথা ব্যথা দেখা দেয়।
৬. ঘাড় বা কাঁধের ব্যথা
যদি প্রায়ই আপনার ঘাড় এবং কাঁধে ব্যথা হয় তাহলে সতর্ক হোন। দ্রুত ডাক্তার দেখান।
৭। মাংসপেশিতে খিল ধরা
আপনার মাংসপেশির স্নায়ুগুলোর রক্ত সরবরাহ যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আপনার দেহের এক বা একাধিক জায়গায় মাংসপেশি শক্ত হয়ে আসবে। দেহের যে কোনো অর্ধেক অংশেই সাধারণত এমনটা ঘটে।

যারা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন

১. যাদের রক্তচাপ ১৪০/৯০ mHg বা তার বেশি।
২. যাদের বয়স বেশি।
৩. যারা ধূমপান করেন।
৪. যাদের ডায়াবেটিস আছে।
৫. যারা হৃদরোগে আক্রান্ত।

অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

১. অ্যালকোহল এবং মাদকদ্রব্য গ্রহণ,
২. স্থূলতা,
৩. তেল চর্বিযুক্ত খাবার বা ফাস্টফুড,
৪. বিষণ্ণতা,
৫. কায়িক পরিশ্রমের অভাব,
৬. কোনো নিউরোলজিক্যাল সমস্যা।

 

কী করা উচিত তার ঘরের মানুষগুলোর?

প্রতি মিনিটে এক দশমিক আট বিলিয়ন কোষ নষ্ট হয়। এই জন্য আমরা বলি দ্রুত রোগীকে আশপাশের হাসপাতালে নিতে হবে। তবে যদি স্ট্রোক বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্ট সেই হাসপাতালে থাকে, সেই ক্ষেত্রে ভালো হয়। কারণ, রক্তনালী বন্ধ হলে এর একটি চিকিৎসা রয়েছে। আগের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি। তবে সেই চিকিৎসা হবে খুব দ্রুত। কয়েক ঘণ্টার ভিতরে। সাধারণত তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা বা ছয় ঘণ্টার মধ্যে। এর মধ্যে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে এসে এর চিকিৎসা নিতে হবে।

error: Alert: Content Copying is protected !!